প্লেব্যাক, আধুনিক গান ও নজরুল সংগীতের পাশাপাশি ফোক গানেই শারমিন দিপুর বিশেষ পরিচিতি তৈরি হয়েছে।
দেশের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছেও তার লোকগানের পরিবেশনা প্রশংসিত। চলতি বছরের শুরুতে লন্ডনের ‘বাউল উৎসব লন্ডন ২০২৬’-এ অংশ নেন তিনি। সেখানে তার পরিবেশনা প্রবাসী দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
বাংলা লোকসংগীতের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী শারমিন দিপু এবার ইউরোপের মাটিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাতাতে যাচ্ছেন বিশেষ সংগীত আয়োজনে। আয়োজকদের প্রকাশিত প্রচারপত্রে অনুষ্ঠানের ভেন্যু হিসেবে Place de la Bataille de Stalingrad, জুরেস পার্ক উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখিত স্থানটি প্যারিসের ১০ম ও ১৯তম অ্যারোঁদিসমঁ-সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত এবং এটি প্যারিসের পরিচিত স্টালিনগ্রাদ স্কয়ারের অংশ।
শারমিন দিপুর পাশাপাশি এ আয়োজনে আরও কয়েকজন শিল্পী ও পারফর্মারের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। পোস্টারে মার্সেল, ওয়াহিদ, কনক চাঁপা, শারমিন দিপু এবং REDz/AshBoii-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
শারমিন দিপুর কাছে বিদেশের মাটিতে বাউল গান পরিবেশন করা তার জন্য গর্ব ও আবেগের বিষয়। তার ভাষায়, “বাউল শুধু একটি সংগীতধারা নয়, এটি আমাদের মাটির দর্শন, মানবতা ও আত্মার ভাষা।”
তিনি আরও বলেন, প্রবাসে দর্শকদের মনোযোগ দিয়ে বাংলা লোকসংগীত শোনা প্রমাণ করে যে লোকসংগীতের কোনো ভৌগোলিক সীমা নেই।
আসন্ন শো প্রসঙ্গ শারমিন দিপু বলেন, “প্রবাসের মাটিতে দাঁড়িয়ে বাংলা গান গাইতে পারাটা আমার কাছে সবসময়ই বিশেষ আনন্দ ও গর্বের। বিশেষ করে লোকগান আমাদের শিকড়, আমাদের মাটি ও মানুষের কথা বলে। বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিরা যখন বাংলা গান শুনে আনন্দ করেন, তখন একজন শিল্পী হিসেবে আমার পরিশ্রম সার্থক মনে হয়।
এবারের আয়োজনেও দর্শকদের প্রিয় কিছু গান পরিবেশন করার চেষ্টা থাকবে। আশা করছি সবাই পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে অনুষ্ঠানে আসবেন এবং বাংলা গান ও সংস্কৃতির সঙ্গে একটি আনন্দময় সময় কাটাবেন।”
এর আগে লন্ডনের বাউল উৎসবেও শারমিন দিপু লোকসংগীতকে বাংলাদেশের মাটি, মানবতা ও আত্মার ভাষা হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।
ফোক স্টার শারমিন দিপু নিয়মিতভাবে ইউরোপ, আমেরিকা,দুবাই, সিঙ্গাপুর, মালয়শিয়া ও ভারতে সংগীত পরিবেশন করে আছেন। বিশ্বব্যাপী লোক ভাষা ও সংস্কৃতি ছড়িয়ে দিচ্ছেন।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, শারমিন দিপুর জনপ্রিয় ফোক গান এবং অন্যান্য শিল্পীদের পরিবেশনা মিলিয়ে এবারের অনুষ্ঠানটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য হয়ে উঠবে আনন্দ ও দেশীয় সংস্কৃতির এক মিলনমেলা। বিশেষ করে ফ্রি এন্ট্রি থাকায় বিপুলসংখ্যক দর্শকের উপস্থিতি প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।