মূল সংবাদে যান
শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬

তিব্বত সীমান্তে কৃত্রিম হ্রদের বাঁধ ভেঙে দ্বিতীয় দফা বন্যা

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপনের স্থান
তিব্বত সীমান্তে কৃত্রিম হ্রদের বাঁধ ভেঙে দ্বিতীয় দফা বন্যা

নেপাল ও তিব্বত সীমান্তের ওপারে তিব্বত অংশে জমে থাকা একটি কৃত্রিম হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধটি অবশেষে ভেঙে গেছে। এর ফলে পাহাড়ি নদীগুলোতে তীব্র বেগে নতুন করে বন্যার পানি ধেয়ে আসায় নেপাল ও চীনের উদ্ধারকর্মীদের অবিলম্বে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

হিমালয় অঞ্চলের দুই দিন আগের এক ভয়াবহ হিমবাহ ধসের জেরে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬৯ জনে দাঁড়ানোর পর এই নতুন সতর্কতা জারি করা হলো।

নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, 'তিব্বত অংশে জমে থাকা একটি প্রাকৃতিক পানির বাঁধ আবারও ভেঙে গেছে। উদ্ধার ও ত্রাণকাজে নিয়োজিত সকল নিরাপত্তা কর্মী, উদ্ধারকর্মী এবং সাধারণ জনগণকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার এবং অবিলম্বে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।'

নেপাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন করে বন্যার পানি ধেয়ে আসায় তারা পরবর্তী ৯০ মিনিটের জন্য সমস্ত উদ্ধার অভিযান স্থগিত করেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর মতে, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নতুন করে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।

হিমালয় অঞ্চলে সৃষ্ট এই কৃত্রিম হ্রদটির বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কায় নেপাল ও চীন উভয় দেশই আগে থেকে নতুন বন্যার সতর্কতা জারি করেছিল। ভূমিধসের ধ্বংসস্তূপের কারণে সীমান্তে এই হ্রদটির সৃষ্টি হয়েছিল।

এদিকে, তিব্বত অংশে নতুন করে প্লাবনের উচ্চ ঝুঁকির কারণে চীনও তাদের উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে। দুই দিন আগের ভয়াবহ কাদা-ধসের পর তিব্বত সীমান্তে এখনও শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

চীন জানিয়েছে, চীন-নেপাল সীমান্তে কাদা-ধসের ধ্বংসস্তূপের কারণে গঠিত বিশাল হ্রদটি উপচে পড়ে উদ্ধারকারী দলগুলো যেদিকে যাচ্ছিল, সেদিকেই প্রবাহিত হতে শুরু করেছে।

সিসিটিভি জানায়, 'সকল উদ্ধারকারী দলকে এই মুহূর্তে যে যার অবস্থানে থেকে পরবর্তী নির্দেশের জন্য অপেক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।'

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইতিমধ্যে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাওয়া জরুরি উদ্ধারকারী দলগুলোকে 'এক কিলোমিটার (০.৬ মাইল) পিছিয়ে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।'

গত বুধবার তিব্বতের সীমান্ত হাব 'গিরিয়ং'-এ কাদা ও ধ্বংসস্তূপের এক বিশাল পাহাড় ধসে পড়ার পর এই কৃত্রিম হ্রদটির সৃষ্টি হয়েছিল, যেখানে এখনও শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সীমান্ত অঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৪৬৯-এ দাঁড়িয়েছে, এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ১ হাজার ৩০০ র বেশি মানুষ। কাদা থেকে টেনে তোলা হচ্ছে একের পর এক মরদেহ।

অন্যদিকে তিব্বতে এখন পর্যন্ত ৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, নিখোঁজের তালিকায় আছেন ৫৫০ জনেরও বেশি।

আবহাওয়া পরিস্থিতি এবং পানির স্তর স্বাভাবিক হওয়ার পর পুনরায় উদ্ধার অভিযান শুরু করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপনের স্থান
আগের সংবাদ

আবারও সংসদ থেকে বিরোধী দলের ওয়াকআউট

পরের সংবাদ

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট পুতিন

আরও পড়ুন

বিভাগভিত্তিক আরও সংবাদ

বিভিন্ন বিভাগের সাম্প্রতিক ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ এক জায়গায় পড়ুন।