আগের চার ম্যাচে নিষ্প্রভ থাকা টিম সাইফার্ট হয়ে উঠলেন ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় বাধা। সেঞ্চুরি না পেলেও এই ওপেনারের ৫০ বলে ৯৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে ভারতকে সাত উইকেটে হারিয়েছে স্বাগতিকরা।
তবে জয়ের ম্যাচে আরেকটি ইতিহাস গড়েছেন গ্লেন ফিলিপস। দ্বিপক্ষীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে সর্বোচ্চ রানের বিশ্বরেকর্ড এখন তার দখলে।
রোববার হ্যামিল্টনের সেডন পার্কে পাঁচ ম্যাচ সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতে ভারতের দেওয়া ১৯২ রানের লক্ষ্য ১৮ ওভারেই পেরিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। ৩ উইকেটে ১৯৫ রান তুলে দুই ওভার হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা।
তবে শেষ দুই ম্যাচ জিতেও সিরিজ হার এড়াতে পারেনি তারা। প্রথম তিন ম্যাচ জিতে আগেই সিরিজ নিশ্চিত করা ভারত শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে জয়ী হয়েছে।
বড় লক্ষ্য তাড়ায় অবশ্য নিউজিল্যান্ডের শুরুটা ভালো হয়নি। দ্বিতীয় ওভারেই ওপেনার ফিন অ্যালেনকে হারায় স্বাগতিকরা। তবে অন্য প্রান্তে ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন সাইফার্ট।
ভারতের বোলারদের ওপর পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে দ্রুতই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন তিনি। মাত্র ৫০ বলের ইনিংসে ১১টি চার ও ৫টি ছক্কা মারেন সাইফার্ট। তার আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ভারতের বোলাররা ম্যাচে ফেরার সুযোগই পাচ্ছিলেন না।
একপর্যায়ে মনে হচ্ছিল, ক্যারিয়ারের প্রথম টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরিটাও পেয়ে যাবেন ৩১ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান। কিন্তু ১৬তম ওভারে নিতিশ কুমার রেড্ডির বলে বোল্ড হয়ে সেই স্বপ্ন ভেঙে যায় তার। ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে বল স্টাম্পে আঘাত করলে ৯৩ রানেই থামতে হয় সাইফার্টকে।
আউট হওয়ার পর তার হতাশা ছিল চোখে পড়ার মতো। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ১৮তম ফিফটি পেলেও প্রথম সেঞ্চুরির অপেক্ষা আরও বাড়ল। তবে সাইফার্টের বিদায়ে জয়ের পথে কোনো বাধা তৈরি হয়নি নিউজিল্যান্ডের। অপরাজিত ৬৫ রানের ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন গ্লেন ফিলিপস।
এদিন ৩৮ বলে অপরাজিত ৬৫ রান করার পথে অনন্য এক রেকর্ড গড়েছেন ফিলিপস। পাঁচ ম্যাচের সিরিজে তার মোট রান দাঁড়িয়েছে ৩৪১। দ্বিপক্ষীয় আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি সিরিজে এর আগে এত রান করতে পারেননি কোনো ব্যাটসম্যান।
আগের রেকর্ডটি ছিল ইংল্যান্ডের ফিল সল্টের। ২০২৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ৩৩১ রান করেছিলেন তিনি। এবার সেই রেকর্ড ১০ রানে ছাড়িয়ে গেলেন ফিলিপস।
পুরো সিরিজজুড়েই দুর্দান্ত ছন্দে ছিলেন নিউজিল্যান্ডের এই ব্যাটসম্যান। প্রথম ম্যাচে অপরাজিত ৮২, দ্বিতীয় ম্যাচে ৭০ এবং তৃতীয় ম্যাচে ১৭ রান করেছিলেন তিনি। এরপর চতুর্থ ম্যাচে অকল্যান্ডে ১০৭ রানের ইনিংস খেলে নিউজিল্যান্ডকে ৮৭ রানের জয় এনে দেন। শেষ ম্যাচেও অপরাজিত ফিফটি করে ইতিহাস গড়লেন।
অবশ্য নিউজিল্যান্ডের জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন পেসার অ্যাডাম মিলনে। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে তার গতির মুখে দ্রুত দুই ওপেনারকে হারায় ভারত। মাত্র ১৯ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে সফরকারীরা।
সেখান থেকে দলকে টেনে তোলেন ইশান কিষান ও অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার। তৃতীয় উইকেটে দুজনে ৭.১ ওভারে যোগ করেন ৯৩ রান। কিষান করেন ৬১, আইয়ারের ব্যাট থেকে আসে ৫০ রান।
তাদের জুটিতে ভারত বড় সংগ্রহের আশা দেখলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। মিলনের দারুণ বোলিংয়ে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৯১ রানে থামে সফরকারীদের ইনিংস।
মাত্র ১৯ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন মিলনে। দুটি করে উইকেট পান নাথান স্মিথ ও ব্লেয়ার টিকনার।
আগামী বুধবার অকল্যান্ডে শুরু হবে দুই দলের পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। এরপর রয়েছে দুটি টেস্ট।