যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর জবাবের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে ইরানের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি জানিয়েছেন, শত্রুদের বিরুদ্ধে দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় এক মুহূর্তের জন্য দ্বিধা করবে না ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। সোমবার ইরানের 'পবিত্র প্রতিরক্ষা সপ্তাহ' উদ্বোধনকালে এমন হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
আমির হাতামি স্পষ্ট করে জানান, ইরানের ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসনের কঠোর ও অনুশোচনামূলক জবাব দেওয়া হবে। স্বাধীনতা, নিরাপত্তা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এক মুহূর্তের জন্যও দ্বিধাবোধ করবে না ইরান।
এদিকে, ইরানের ওপর নতুন করে কোনো হামলা হলে যুদ্ধের ভৌগোলিক পরিসর ও ব্যবহৃত অস্ত্রশস্ত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসলামিক রেভোলিউশন গার্ডস কর্পসের (আইআরজিসি) মুখপাত্র সেকেন্ড ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি। খবর প্রেস টিভির। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, নতুন কোনো আগ্রাসন হলে ইরানের প্রতিরক্ষা ও পাল্টা হামলার কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে যুদ্ধের ভৌগোলিক পরিসরও পরিবর্তন করা হবে।
মোহেব্বি বলেন, ইরান নতুন সক্ষমতাসম্পন্ন অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার করবে, যা দেখে ‘বিশ্ববাসী বিস্মিত হবে’। আইআরজিসির এই মুখপাত্র বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ওয়াশিংটন কৌশলগত পরাজয়ের মুখে পড়েছে। তার ভাষায়, এই পরাজয় ‘ঐতিহাসিক ও অপমানজনক’ হলেও যুক্তরাষ্ট্র তা স্বীকার করতে সাহস করছে না।
মোহেব্বির বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ২০২৫ সালের জুনে ইরানের বিরুদ্ধে প্রথম দফার যুদ্ধ শুরু করে, যা ১২ দিন স্থায়ী হয়। এরপর ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় দফার সংঘাত শুরু হয়ে এপ্রিলের শুরুতে শেষ হয়। উভয় ক্ষেত্রেই ইরানের প্রতিরোধ ও পাল্টা হামলার কারণে আগ্রাসনকারীরা যুদ্ধবিরতিতে যেতে বাধ্য হয় বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো আগ্রাসন হলে পুরো অঞ্চলজুড়ে মার্কিন অবস্থান ও স্বার্থের ওপর ধারাবাহিক ও ‘বেদনাদায়ক’ পাল্টা হামলা চালানো হবে। মোহেব্বি বলেন, দ্বিতীয় দফার যুদ্ধের শুরু থেকেই ইরান হরমুজ প্রণালীর ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিপুল সামরিক সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ পুনরায় চালু করতে ব্যর্থ হয়েছে। সূত্র: ইরানা, মেহের নিউজ