৬ ওভারে ৯০ রানের সমীকরণ মেলানো প্রায় অসম্ভব গোছের কাজ। মঞ্চটা যখন হয় ফাইনালের, তখন কাজটা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু পাকিস্তান আজ সে অসম্ভবটা সম্ভব করার স্বপ্নেই বিভোর হয়ে পড়েছিল। কারণ ক্রিজে যে হাসান নওয়াজ ছিলেন! তার একের পর এক চার-ছক্কায় অসম্ভব হয়ে পড়া লক্ষ্যকেও মনে হচ্ছিল যেন নাগালের কাছেই।
কিন্তু শেষমেশ পাকিস্তানকে বাস্তবতার জমিনে নামিয়ে আনল ভারত। হাসান নওয়াজ সেঞ্চুরিও পেলেন না শেষমেশ। ২১২ রান তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান থামল ১৯২ রানে। ১৯ রানের জয় নিয়ে ভারত টানা দ্বিতীয় বারের মতো জিতল এশিয়ান গেমসের সোনা।
টস জিতে আগে ব্যাট করে ভারত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ২১১ রান তোলে। ওপেনার অভিষেক শর্মা ২৮ বলে ৬১ রান করেন। তবে মাঝের ওভারে গতি হারিয়ে বসেছিল ভারত। সেখান থেকে তিলক ভার্মার ২২ বলে অপরাজিত ৫১ রানের ইনিংস গতি বাড়ায় দলটির। শেষ দিকে শিভম দুবের ১৪ বলে ২৭ রানের ক্যামিও ভারতকে নিয়ে যায় ২১১ রানের পাহাড়ে। প্রথম দল হিসেবে এশিয়ান গেমসের ফাইনালে ২০০ রানের মাইলফলক ছোঁয় ভারত।
জিততে পাকিস্তানের দরকার ছিল ২১২ রান। ভালো শুরু পায়নি দলটি। অধিনায়ক সাহিবজাদা ফারহান ১০, উসমান খান ৩ আর মাজ সাদাকাত ২৩ রানে ফেরেন। ৩৯ রানে পাকিস্তান তিন উইকেট হারায়। পাকিস্তান এখানেই পিছিয়ে পড়ে।
হাসানের লড়াই শুরু এরপরই। সাইম আইয়ুবের সঙ্গে জুটি গড়েন প্রথমে। তারা ৫০ রানের জুটি করেন। নওয়াজ ২৮ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন। তিনি রবি বিষ্ণোইকে একাধিক ছক্কা মারেন। ১৩ ওভার শেষে পাকিস্তানের রান ছিল ১১৭। কিন্তু চাহিদা রান রেট তখন অনেক বেড়ে গিয়েছিল। ৭ ওভারে দলের দরকার ছিল ৯৫ রান।
কাজটা আরও কঠিন হয়ে পড়ে দুবে ১৫তম ওভারের প্রথম বলেই সাইম আইয়ুবকে ২৯ রানে আউট করলে। তবে নওয়াজ হাল ছাড়েননি। ১৬তম ওভার থেকে তোলেন ১৪। ১৭তম ওভারে নওয়াজ দুবেকে টানা দুটি চার মারেন। তখন চাপে পড়ে ভারত।
১৮ ওভার শেষে পাকিস্তানের রান ছিল ১৬৮। জয়ের জন্য ১২ বলে দরকার ছিল ৪৪। এই ওভারেই খেই হারিয়ে বসে দলটি। সে ওভার থেকে আসে মোটে ১১ রান। তাতে শেষ ওভারে পাকিস্তানের প্রয়োজনটা গিয়ে ঠেকে ৩৩ রানে। সে সমীকরণ আর মেলানো হয়নি।
শেষ ওভারটি করেন দুবে। প্রথম বলে সাদ মাসুদ চার মারেন। এরপর একটি ওয়াইড হয়। পরের দুটি বল ডট দেন দুবে। দুটিই ছিল ইয়র্কার। পঞ্চম বলে নওয়াজ ছক্কা মারেন। তখন তিনি ৯৬ রানে ছিলেন। কিন্তু ম্যাচ ততক্ষণে হাতের বাইরে চলে গেছে। শেষ বলে পুল করতে গিয়ে নওয়াজ উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দেন। তিনি ৯৬ রানে আউট হন। সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৪ রান দূরে থেমে যান তিনি। ম্যাচ শেষ হয় ১৯ রানের জয়ে।
এই জয়ে ভারত এশিয়ান গেমসের পুরুষ ক্রিকেটে সোনা পেল। ভারত এই আসরের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ছিল। পাকিস্তান পুরুষ ক্রিকেটে প্রথম সোনা জেতার সুযোগ হারাল।