ভ্রমণের নতুন গন্তব্য খুঁজতে এবং ছুটির পরিকল্পনা করতে জেনারেশন জেডের (জেনজি) বড় একটি অংশ এখন টিকটকের ওপর নির্ভর করছে। ইউরোপের তিন দেশ স্পেন, ইতালি ও যুক্তরাজ্যে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৪৮ শতাংশ জেন-জি ভ্রমণকারী টিকটক থেকে ভ্রমণের অনুপ্রেরণা পান।
টিইউআই মিউজমেন্টের এই গবেষণায় দেখা গেছে, ভ্রমণের ক্ষেত্রে টিকটক এখন বন্ধু ও পরিবারের পরামর্শকেও ছাড়িয়ে গেছে। বন্ধু ও পরিবারের পরামর্শকে ভ্রমণের অনুপ্রেরণার উৎস বলেছেন ৪৩ শতাংশ জেন-জি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব শুধু গন্তব্য বাছাইয়েই সীমাবদ্ধ থাকছে না। গবেষণায় অংশ নেওয়া মোট ভ্রমণকারীর ৪৩ শতাংশ জানিয়েছেন, কোনো ভাইরাল পোস্ট বা ভিডিও দেখে তারা ভ্রমণ বা কোনো পর্যটন কার্যক্রম বুক করেছেন। মিলেনিয়ালদের ক্ষেত্রে এই হার ৫২ শতাংশ এবং জেন-জিদের মধ্যে ৫০ শতাংশ।
ভ্রমণ-ইনফ্লুয়েন্সারদের প্রভাবও বাড়ছে। ৪৩ শতাংশ ভ্রমণকারী বলেছেন, তারা কোন দেশে বা কোন জায়গায় যাবেন, তা নির্ধারণে অনুসরণ করা কনটেন্ট নির্মাতাদের প্রভাব রয়েছে। এমনকি ২৭ শতাংশ জানিয়েছেন, কোনো ইনফ্লুয়েন্সারের পরামর্শে তারা ভ্রমণের গন্তব্যই পরিবর্তন করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব ভ্রমণস্থলে পৌঁছানোর পরও থাকে। গবেষণায় ৩৭ শতাংশ ভ্রমণকারী বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের ভ্রমণকে আরও আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরার চাপ তারা অনুভব করেন। জেন-জিদের মধ্যে এই হার আরও বেশি, ৪৫ শতাংশ।
ছবি ও ভিডিও তোলার জন্যও অনেকে নির্দিষ্ট পর্যটনকেন্দ্রে যাচ্ছেন। ৩৯ শতাংশ ভ্রমণকারী জানিয়েছেন, তারা কোনো পর্যটনস্থলে মূলত ছবি তোলা বা ভিডিও করার জন্য গেছেন। আর ৩৭ শতাংশ বলেছেন, তারা কখনো কখনো কম পরিচিত জায়গার বদলে ইনস্টাগ্রামে জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র বেছে নেন।
অর্থাৎ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো একটি জায়গার ভিডিও সহজেই চোখের সামনে চলে আসে। সেখানে গিয়ে মানুষ কী করছে, জায়গাটা দেখতে কেমন, কী খাওয়া যায় বা কীভাবে সময় কাটানো যায়; এসব দেখা যায়।
এসব কারণে মানুষ এখন কোথায় যাবে, কী করবে এবং সেখানে গিয়ে কীভাবে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরবে। সেসব সিদ্ধান্তেও বড় ভূমিকা রাখছে।