২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও উদ্ভূত সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিতে কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামি আবু মোকারমকে (৪৪) গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-১১।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন এসআরবি-১১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাসুদ পারভেজ।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআরবি-১১-এর একটি চৌকস আভিযানিক দল গত ৩ নভেম্বর রাত ৮টায় নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ থানাধীন মেঘনা টোল প্লাজা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামি আবু মোকারমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি চট্টগ্রাম জেলার চন্দনাইশ থানার উত্তর বরকল (সর্দার বাড়ি) এলাকার আবু তালেবের ছেলে।
আসামি আবু মোকারম চট্টগ্রামের চন্দনাইশের একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত হয়ে ২০১৩ সালের ৯ জুলাই থেকে গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ৬ আগস্ট সকালে কারাবন্দিরা সংঘবদ্ধ হয়ে দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও অগ্নিসংযোগ শুরু করে।
একপর্যায়ে তারা কারারক্ষীদের জিম্মি করে বৈদ্যুতিক পিলার ভেঙে তৈরি করা মই দিয়ে সীমানাপ্রাচীর টপকে পালিয়ে যায়। পালিয়ে যাওয়া বন্দিদের মধ্যে আবু মোকারমও ছিলেন। এ ঘটনায় কারা কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে গাজীপুরের কোনাবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, চট্টগ্রাম জেলার চন্দনাইশ থানায় দায়ের করা হত্যা মামলার নম্বর ০৭(১১)২০০৯। দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় করা এ মামলায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় চট্টগ্রামের বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, তৃতীয় আদালত ২০১৩ সালের ১৯ মে আবু মোকারমকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।
কারাগার থেকে পালানোর পর গ্রেপ্তার এড়াতে আবু মোকারম বিভিন্ন ছদ্মবেশ ধারণ করেন এবং পরিচয় গোপন রেখে দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ীভাবে আত্মগোপনে ছিলেন। পরবর্তী সময়ে এসআরবি-১১-এর গোয়েন্দা নজরদারি ও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায়, পারিবারিক শত্রুতার জের ধরে আবু মোকারমসহ অন্য আসামিরা মিলে তাঁর বোনের চাচি-শাশুড়িকে হত্যা করে বাড়ির পাশের ধানক্ষেতে ফেলে রাখেন।
এ ঘটনায় চন্দনাইশ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে আবু মোকারম ছিলেন এক নম্বর আসামি। হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়টি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিচার শেষে আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাঁকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।