মূল সংবাদে যান
শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬

নেই হোপ মার্কেট, মিরপুর ১০ নম্বরের ফুটপাত এখন ফাঁকা

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপনের স্থান
নেই হোপ মার্কেট, মিরপুর ১০ নম্বরের ফুটপাত এখন ফাঁকা

রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর সেকশনের সি ব্লকের অ্যাভিনিউ-২ সড়ক। গতকাল শুক্রবার বেলা তিনটার দিকে পানির ট্যাংক এলাকায় এসে থামল ব্যাটারিচালিত একটি অটোরিকশা। আরোহী ছিলেন দুই নারী। একজন ব্যাগ থেকে ভাড়ার টাকা বের করছিলেন, অন্যজন তাকাচ্ছিলেন চারদিকে।

সড়ক ও ফুটপাতজুড়ে কোথাও কোনো দোকান নেই, নেই হকার বা ভ্রাম্যমাণ কোনো বিক্রেতাও।

চারপাশ এতটাই ফাঁকা যে রিকশা থেকে নামবেন কি না, তা নিয়েও যেন খানিকটা দ্বিধায় পড়েছিলেন তাঁরা। কারণ, এত দিনের চেনা জায়গাটি যেন ভিন্ন রূপ নিয়েছে।

শেষ পর্যন্ত ভাড়া মিটিয়ে রিকশা থেকে নামলেন দুজন। এগিয়ে গিয়ে কথা বলে জানা গেল, তাঁরা এসেছেন মিরপুর ১০-এর হোপ মার্কেটে কাপড় কিনতে। অতীতেও এখান থেকে কাপড় কিনেছেন; কিন্তু পরিচিত এই জায়গায় এসে দোকানপাটের কোনো চিহ্ন না দেখে অবাক হয়েছেন। গত বুধবার ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফুটপাত ও সড়ক থেকে হকার ও ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করা হয়েছে—এ তথ্য তাঁদের জানা ছিল না।

হোপ মার্কেটে এসে কেনাকাটা করতে না পেরে কিছুটা আক্ষেপ প্রকাশ করেন। তবে ফুটপাত ও সড়কের সুন্দর ফাঁকা অবস্থা দেখে ভালো লাগছে বলেও তাঁরা জানান।

এলাকাটিতে হোপ প্লাজা নামের একটি ভবন আছে। এর আশপাশের সড়ক ও ফুটপাতে এত দিন ভ্রাম্যমাণ যে বাজার বসত, তা হোপ মার্কেট নামে পরিচিতি পায়।

গতকাল কেনাকাটা করতে আসা দুই নারীই ছিলেন শিক্ষার্থী। রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় একটি ছাত্রীনিবাসে থাকেন। তাঁদের একজন সুরাইয়া মিম, অন্যজন নওশীন জাহান। হোপ মার্কেটে এসে কেনাকাটা করতে না পেরে কিছুটা আক্ষেপ প্রকাশ করেন। তবে ফুটপাত ও সড়কের সুন্দর ফাঁকা অবস্থা দেখে ভালো লাগছে বলেও তাঁরা জানান।

সুরাইয়া মিম বলেন, এত দিন এই সড়ক যে এতটা প্রশস্ত এবং পাশে হাঁটার জন্য ফুটপাত আছে, তা বোঝারই উপায় ছিল না।

নওশীন জাহান বলেন, ফুটপাত ও সড়কজুড়ে হকারদের দোকানের কারণে এখানকার বাসিন্দাদের যে কী পরিমাণ ভোগান্তি হতো, তা এখন ফাঁকা জায়গাটি দেখে বোঝা যাচ্ছে।


গতকাল বিকেলে হোপ মার্কেট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সড়কে কোনো ভ্রাম্যমাণ দোকান নেই। ফুটপাতও ফাঁকা। মাথার ওপর ছাউনির মতো কাঠ-বাঁশের সঙ্গে বেঁধে রাখা পলিথিন বা ত্রিপলও নেই। প্রশস্ত ফুটপাত দিয়ে স্বচ্ছন্দে হাঁটছেন পথচারীরা। সড়কও দেখাচ্ছে খোলামেলা। মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে মিরপুর ১৩ নম্বর সেকশনের দিকে কয়েক কিলোমিটার এলাকা ঘুরেও একই চিত্র দেখা যায়। হোপ মার্কেটসহ আশপাশের সড়ক ও ফুটপাত থেকে হকারদের দোকানপাট সরে গেছে।

বুধবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে হোপ মার্কেটের দিকে ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। একপর্যায়ে হকার ও দোকানিদের সঙ্গে পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের মধ্যে ডিএনসিসির তিনটি গাড়িতে আগুন দেওয়া এবং পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার হন গণমাধ্যমকর্মীরাও।

পরে দুপুরের দিকে ঘটনাস্থলে যান ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। তাঁর উপস্থিতিতে মিরপুর ১০ থেকে মিরপুর ১৩ নম্বর পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের ফুটপাতের ভাসমান দোকান উচ্ছেদ করা হয়।

এসব দোকানে মূলত নারী ও শিশুদের পোশাক, জুতা, অলংকার, প্রসাধনীসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি হতো। ছিল ফুচকা, চটপটি ও ভাজাপোড়া খাবারের দোকানও।


গোলচত্বর থেকে বিআরটিএ পর্যন্ত এখন ফাঁকা


অভিযানের আগে হোপ মার্কেটকে কেন্দ্র করে মিরপুর ১০ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের ১১/১ ও ১১/২ নম্বর লেন, বায়তুল কুদ্দুস জামে মসজিদের পাশের ফুটপাত, মিরপুর আদর্শ বালিকা উচ্চবিদ্যালয় এবং সি ব্লকের অ্যাভিনিউ-২-এর সড়ক ও ফুটপাতের বড় অংশ দখলে ছিল হকারদের। ফুটপাতের সীমানাদেয়ালের সঙ্গে বাঁশ ও কাঠ বেঁধে পলিথিন ও ত্রিপলের ছাউনি দিয়ে দোকান বসানো হয়েছিল। মূল সড়কের ভেতরেও দুই থেকে তিন সারিতে বসানো হয়েছিল অস্থায়ী দোকান। এসব দোকানে মূলত নারী ও শিশুদের পোশাক, জুতা, অলংকার, প্রসাধনীসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি হতো। ছিল ফুচকা, চটপটি ও ভাজাপোড়া খাবারের দোকানও।

সি ব্লকের অ্যাভিনিউ-২ থেকে ৬ নম্বর লেন পর্যন্ত প্রায় ২০০ মিটার সড়কের দুই পাশের ফুটপাতের পুরোটাই দখলে ছিল বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান। গতকাল সরেজমিন সেখানে কোনো দোকান দেখা যায়নি। বুধবার ভেঙে দেওয়া দোকানের বাঁশ, কাঠ ও ত্রিপলের অংশ পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

 চার বছরের ছেলে আফসারকে নিয়ে ফুটপাত দিয়ে হাঁটছিলেন ফরিদা বেগম। ৬ নম্বর লেনের একটি বাসায় প্রায় দুই বছর ধরে থাকেন তিনি। ফরিদা বলেন, ‘আগে এই রাস্তা ও ফুটপাত দিয়ে হেঁটে চলার উপায় ছিল না। বিশেষ করে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতার প্রচুর ভিড় থাকত। এখন নির্বিঘ্নে হাঁটতে পারছি। ছেলেও নিজে নিজেই হাঁটছে।’

হোপ মার্কেটের পাশের বি ব্লকের ১১/২ নম্বর লেনের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কী যে একটা যন্ত্রণার মধ্যে ছিলাম! আর এখন কী যে ভালো লাগছে, বলে বোঝানো যাবে না। এখন বাসা থেকে বের হয়ে শান্তি লাগছে।’

এই ফুটপাত-সড়ক এমনই দখলমুক্ত থাকুক—এমন প্রত্যাশা করে রফিকুল বলেন, সিটি করপোরেশন যেন এদিকে দৃষ্টি রাখে। আবারও অবৈধ কোনো দখলদারের কবলে না পড়ে ফুটপাত-সড়ক।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপনের স্থান
আগের সংবাদ

৪ ঘণ্টা পর সিলেটের সঙ্গে রেলযোগাযোগ স্বাভাবিক

পরের সংবাদ

ঝগড়া মেটাতে গিয়ে সাতক্ষীরায় ছুরিকাঘাতে তরুণ নিহত

আরও পড়ুন

বিভাগভিত্তিক আরও সংবাদ

বিভিন্ন বিভাগের সাম্প্রতিক ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ এক জায়গায় পড়ুন।