মূল সংবাদে যান
রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬

গভীর রাতে বাড়িতে হামলা ও লুটপাট, বাড়িছাড়া ভুক্তভোগী পরিবার

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপনের স্থান
গভীর রাতে বাড়িতে হামলা ও লুটপাট, বাড়িছাড়া ভুক্তভোগী পরিবার

যশোর সদর উপজেলার পাঁচবাড়িয়া স্কুলপাড়া এলাকায় গভীর রাতে এক বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, মারধর ও ভয়াবহ লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। পূর্ব শত্রুতার জেরে সংঘটিত এই নৃশংস হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন।

ঘটনার পর থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ মামলা না নিয়ে কেবল একটি লিখিত অভিযোগ জমা রেখেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে, আসামিদের হুমকি-ধামকিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটানো ভুক্তভোগী পরিবারটি গত কয়েকদিন ধরে বাড়িছাড়া রয়েছে।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে যশোর সদর উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের পাঁচবাড়িয়া স্কুলপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. আব্দুল খালেক (৭৩)-এর নিজ বাড়িতে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব কোনো কথা কাটাকাটির জেরে একদল সশস্ত্র হামলাকারী অতর্কিত ওই বৃদ্ধের বসতবাড়িতে চড়াও হয়। হামলাকারীদের দেশীয় অস্ত্রের এলোপাতাড়ি আঘাতে পরিবারের সদস্যরা রক্তাক্ত ও জখম হন।

আহতরা হলেন- বাড়ির মালিকের ছেলে মো. হেলাল হোসেন (২৮), পুত্রবধূ মোছা. শারমীন সুলতানা (২৪), ছোট ভাই মো. সেকেন্দার আলী (৬৫), ভাইপো মো. মাসুম বিল্লাহ (৪৬), বড় বৌমা মোছা. ইয়াসমিন আরা (৩৭) এবং পরিবারের শিশু সদস্য আফিয়া ইবনাত মালিহা (১৩)।

ঘটনার পরপরই স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

লিখিত অভিযোগে আরও দাবি করা হয়, সশস্ত্র হামলাকারীরা ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে তাণ্ডব চালায় এবং ব্যাপক ভাঙচুর ও আসবাবপত্র তছনছ করে।

একপর্যায়ে তারা ঘরের আলমারি ভেঙে আব্দুল খালেকের ব্যবসার নগদ ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং প্রায় দেড় ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়।

লুণ্ঠিত স্বর্ণালংকারের মধ্যে রয়েছে দুটি সোনার চেইন, দুই জোড়া কানের দুল ও এক জোড়া রুলি। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীদের আর্তচিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়।

পুলিশের ভূমিকা নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী আব্দুল খালেকের ছেলে আওয়াল হোসেন বলেন, ঘটনার পরের দিন সকালে আমরা থানায় মামলা করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ মামলা না নিয়ে শুধু একটি লিখিত অভিযোগ জমা রেখেছে। আমরা বারবার পুলিশের দ্বারস্থ হলেও তারা মামলা নিতে রাজি হয়নি।

তিনি আরও জানান, হামলার পর থেকে আসামিরা রাস্তার ওপরে লাঠিসোটা ও রামদা হাতে মহড়া দিচ্ছে এবং বাড়িতে ঢুকতে গেলেই নানামুখী হুমকি দিচ্ছে। এই আতঙ্কে গত কয়েক দিন ধরে পুরো পরিবার বাড়িছাড়া।

ব্যবসা-বাণিজ্য থমকে যাওয়ার পাশাপাশি রাতের ঘুমও হারাম হয়ে গেছে। এই অবর্ণনীয় পরিস্থিতিতে প্রশাসনের সহযোগিতা না পেলে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কা করছেন তারা।

এ বিষয়ে পুলিশের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুরো ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং তদন্তে সত্যতা মিললে দ্রুত নিয়মিত মামলা দায়ের করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বর্তমানে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি নিজেদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দ্রুত হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপনের স্থান
আগের সংবাদ

ভুয়া ফেসবুক পেজ বন্ধে মাউশির ৭ দিনের আলটিমেটাম

পরের সংবাদ

ছাত্রীনিবাসে ছাত্রীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ, পুলিশ দেখে পালালেন ভবন ম...

আরও পড়ুন

বিভাগভিত্তিক আরও সংবাদ

বিভিন্ন বিভাগের সাম্প্রতিক ও গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ এক জায়গায় পড়ুন।